লিভার স্বাস্থ্য
May 12, 2026
7 মিনিট পড়ুন

ফ্যাটি লিভার রোগ: কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা পদ্ধতি

Author

Dr. A. B. M. Shakil Gani

HEPATOLOGY SPECIALIST

Share
URL Copied!
Blog

ফ্যাটি লিভার রোগ — চিকিৎসাবিজ্ঞানে হেপাটিক স্টিটোসিস নামে পরিচিত — তখন হয় যখন লিভারের কোষে অতিরিক্ত চর্বি জমা হয়। লিভারে সামান্য চর্বি স্বাভাবিক, তবে চর্বির পরিমাণ লিভারের ওজনের ৫–১০%-এর বেশি হলে এটি লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট করতে পারে এবং চিকিৎসা না হলে গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে।

ফ্যাটি লিভার রোগের ধরন

  • নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD): বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে প্রচলিত ধরন, যা খুব কম বা একেবারে অ্যালকোহল পান করেন না এমন মানুষদের মধ্যে দেখা যায়। এটি স্থূলতা, টাইপ ২ ডায়াবেটিস ও মেটাবলিক সিনড্রোমের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
  • নন-অ্যালকোহলিক স্টিটোহেপাটাইটিস (NASH): NAFLD-এর আরও গুরুতর রূপ যেখানে চর্বি জমার সাথে সাথে প্রদাহ ও লিভার কোষের ক্ষতি হয়, যা পরবর্তীতে সিরোসিসে পরিণত হতে পারে।
  • অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (AFLD): দীর্ঘমেয়াদী অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবনের ফলে হয়। লিভার চর্বি বিপাক করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

ঝুঁকির কারণসমূহ

  • স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন (বিশেষত পেটে চর্বি জমলে)
  • টাইপ ২ ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স
  • উচ্চ কোলেস্টেরল বা উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইড
  • মেটাবলিক সিনড্রোম
  • দ্রুত ওজন কমানো বা অপুষ্টি
  • কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ (যেমন কর্টিকোস্টেরয়েড, ট্যামোক্সিফেন)

লক্ষণ ও উপসর্গ

ফ্যাটি লিভার রোগকে প্রায়ই "নীরব" রোগ বলা হয় কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনো উল্লেখযোগ্য লক্ষণ থাকে না। লক্ষণ দেখা দিলে তা হতে পারে:

  • ক্লান্তি ও সাধারণ দুর্বলতা
  • পেটের উপরের ডান দিকে ভোঁতা ব্যথা বা ভার অনুভব
  • উন্নত পর্যায়ে হালকা জন্ডিস (ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া)
  • গুরুতর ক্ষেত্রে পেটে পানি জমা (অ্যাসাইটিস)

রোগ নির্ণয়

রোগ নির্ণয়ে সাধারণত রক্ত পরীক্ষা (লিভার ফাংশন টেস্ট, FIB-4 স্কোর, APRI), ইমেজিং (আলট্রাসাউন্ড, ফাইব্রোস্ক্যান) এবং কিছু ক্ষেত্রে ফাইব্রোসিস ও প্রদাহের মাত্রা নির্ধারণে লিভার বায়োপসি করা হয়।

চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা

বর্তমানে NAFLD বা NASH-এর জন্য কোনো অনুমোদিত ওষুধ নেই, তাই জীবনধারা পরিবর্তনই মূল চিকিৎসা:

  • ওজন কমানো: শরীরের ওজনের মাত্র ৫–১০% কমালেও লিভারের চর্বি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
  • স্বাস্থ্যকর খাদ্য: সবজি, গোটা শস্য, চর্বিহীন প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি সমৃদ্ধ ভূমধ্যসাগরীয় ধাঁচের খাদ্য তালিকা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
  • নিয়মিত ব্যায়াম: সপ্তাহে কমপক্ষে ১৫০ মিনিট মাঝারি তীব্রতার অ্যারোবিক কার্যকলাপ।
  • অ্যালকোহল এড়ানো: ফ্যাটি লিভারের সকল ধরনে সম্পূর্ণ পরিহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
  • সহ-রোগ নিয়ন্ত্রণ: রক্তে শর্করা, কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য।

প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় ও ধারাবাহিক জীবনধারা পরিবর্তন রোগের অগ্রগতি শুধু থামাতেই পারে না, অনেক ক্ষেত্রে ফ্যাটি লিভার রোগ সম্পূর্ণ নিরাময়ও করতে পারে। নিয়মিত হেপাটোলজিস্টের সাথে ফলো-আপ করার জোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

চিকিৎসা দাবিত্যাগ

এই ওয়েবসাইটে প্রদত্ত তথ্য শুধুমাত্র সাধারণ তথ্য ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে। এটি পেশাদার চিকিৎসা পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়। যেকোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় সর্বদা আপনার চিকিৎসক বা যোগ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর পরামর্শ নিন।